লেখক- সেখ মইনুল হাসান
একদিন ফেরাউন তার বন্ধু হামান কে ডেকে বলল, বন্ধু, তোমার বুদ্ধি
কোশলে আমি মিশরের অধিপতি হয়েছি এবং বহু সাধ আমার মিটে গেছে। এখন তু,ই আর একটি সাধ আমার
মিটিয়ে দাও। তাহলেই আমার জীবন ধন্য হয়ে যাবে ।
হামান বলল, সেটা কি? ফেরাউন বলল, আমি এখন মানুষের আল্লাহ হতে
চাই। সবাই যেন আমার পুজা করে।
হামান বলল, এ স্বপ্ন ত্যাগ করুন, কারন মিশরের লোকেরা সকলেই
শিক্ষিত, ওদিগে একথা বললে তারা আল্লাহ বলে তো মানবেই না বরং আপনার গদি টাও চলে যাবে।
জনগন অশিক্ষিত হলে আশা হয়ত পুর্ন হত।
ফেরাউন বলল, আমি যদি স্কুল-কলেজ, মাদ্রাসা ভেঙ্গে দিয়ে শিক্ষার
পথ বন্ধ করে দিই, তারপর প্রবীন শিক্ষিতদের মুত্য পয্যন্ত অপেক্ষা করি, তারপরেও কি আমার
সাধ মিটবে না?
হামান বলল, অতদিন পর হয়ত আশা পুর্ন হতে পারে কিন্তু এখনই স্কুল
কলেজ মাদ্রাসা ভাঙ্গতে গেলে তো এখনই আপনাকে বিক্ষভের মুখে পড়তে হবে ও আপনি গদিচ্যুত
হবেন।
ইতিমধ্যে ইবলিশ শয়তান এসে ফেরাউনকে বলল, বন্ধুবরকে চিন্তিত
মনে হচ্ছে কেন? উত্তরে ফেরাউন সমস্থ সমস্যা কথা সবিস্তারে বলল।
শুনে ইবলিশ বলল, এটা কোন সমস্যা নয়। এরকম পরিস্থিতিতে পড়লে
আমাকে একটু স্মরন করবে।আমি সমাধান করে দেব। এখন বর্তমান সমস্যার সমাধান শোন- তুমি একদিন
মিশরের জনগন কে জড় করে মঞ্চে চড়ে মাত্র পাচ মিনিটের একটা ভাষন দেবে। ব্যাস, ওতেই কেল্লা
ফতেহ হয়ে যাবে।
তুমি ভাষনে বলবে-‘ হে মিশরের জনগন, আমি একজন জন দরদী ও গরিব
দরদী বাদশাহ, আমার চোখে ধনী-গরিব সবাই সমান। আমি লক্ষ্য করি, বাৎসরিক পরীক্ষার শেষে
ধনীদের ছেলেরা পাশ-সার্টিফিকেট নিয়ে হাসতে হাসতে বাড়ি ফিরে কারন তারা টিউশন পড়ে। আর
গরিবের ছেলেরা অভাবের কারনে টিউশন পড়তে পারে না আর পড়তেও সময় পায় না। তাই তারা পরীক্ষায়
ফেল করে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি ফিরে।
এ দৃশ্য আমার মনে বড় কস্ট দেয়। তাই আমি আজ থেকে নতুন নিয়ম জারি
করছি, সেটা হচ্ছে- আগামি বছর থেকে বিদ্যালয়ে পাশ-ফেল প্রথা তুলে দিলাম। ছাত্র লিখুক
চাই না লিখুক তাকে পাশ সার্টিফিকেট দিতেই হবে তাহলে রেজাল্ট আউটের দিনে ধনী-গরিব সবার
মুখে হাসি ফুটে উঠবে, আর তাতে আমি আনন্দিত হব’।
হে ফেরাউন- এর ফলে এক টিলে দুই পাখি মরবে, এক সাথে তোমার দুটি
উদ্দেশ্যেই পুর্ন হবে, যথা-
০১. পাশ-ফেল তুলে দিলেই ছেলেদের পড়া-শুনা ডাকে উঠবে, তারা না
পরেই পরিক্ষা দিবে ও বড় বড় ডিগ্রি হাসিল করবে কিন্তু পেটে কিছু থাকবে না।
এই ভাবে পুরোনো শিক্ষিত লোকগুলো মরা পয্যন্ত বছর চল্লিশ অপেক্ষা
করবে, তারপর দেখবে, দেশটা ডিগ্রিধারি মুর্খ্য তে ভরে যাবে, তারা সব বড় বড় ডিগ্রিধারী
হবে কিন্তু একেবারে নির্বো্ তখন তুমি আল্লাহ মানেকি ডবল আল্লাহ বললেও চলে যাবে।
০২. তোমাকে গদিচ্যুত হতে হবে না, বরং গরিব দরদী মনে করে তারা
তোমাকে বেশি করে শ্রদ্ধা করবে, ফলে গদিটা আরো মজবুত হবে।
ফেরাউন ঐ ভাবে পাশ-ফেল তুলে দিয়ে জনগন কে বোকা বানিয়ে মানুষের
আল্লাহ হয়েছিল।
আমাদের দেশেও সরকার পাশ-ফেল তুলে ফেরাউনি চক্রান্তের মাধ্যমে
মুর্খ্য বানিয়ে আমাদের কে যথেস্ট ব্যাবহার করতে চায়।
এই মহামারির মধ্যে নির্বাচন হচ্ছে, হাট-বাজার হচ্ছে, কিন্তু
স্কুল-কলেজ বন্ধ কারন একটাই সরকার চাল,আলু,সাইকেল, সব দিবে কিন্তু শিক্ষা নয়, কারন
সবাই শিক্ষিত হলে জনগন কে বোকা বানিয়ে গদিদে থাকা যাবে না।

0 Comments